জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের জাতীয় কমিটির আজকের সভা, দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা, দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির আলোকে পর্যালোচনা এবং পূনঃমূল্যায়ন করে নিম্নের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব গ্রহণ করছে।

১. ৬০ দশকে দীর্ঘ জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম-স্বাধিকার সংগ্রাম-স্বাধীনতার সংগ্রামের পরিণতিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রায়োপনিবেশিক শাসন ও সামন্ততান্ত্রিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ধারার অবসান ঘটে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র, রাষ্ট্র কাঠামোর বৈপ্লবিক পরিবর্তন না হওয়া, উপনিবেশিক-প্রায়োপনিবেশিক আমলের আইন-কানুন-বিধি-বিধান দিয়ে দেশ শাসন করা, পাকিস্তানী প্রায়পনিবেশিক শাসনের ধারক-বাহক বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে দমন না করা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ধ্যান-ধারনা শিকড়সহ উপড়ে না ফেলার ফলে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ তথা বাংলাদেশ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি সাময়িকভাবে পরাজিত হয়ে পলায়ন, আত্মগোপন করলে বা নিস্ক্রিয় হলেও মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত পাকিস্তানসহ অন্যান্য সকল আন্তর্জাতিক শক্তি ও দেশীয় শক্তির সমর্থনে তারা তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে গোপনে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, প্রস্তুতি নিতে থাকে। ৬০ দশকের শুরু থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম-স্বাধিকার সংগ্রাম-স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকা শক্তি স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন ছাত্রলীগের বিপ্লবী ধারা, যা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ বা ‘স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস’ এবং মুক্তিযুদ্ধে ‘বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল সেই ধারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন দেশের উপযোগী রাষ্ট্র-প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শোষণ-বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করা এবং সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করার জন্য বাঙালি জাতির অবিসম্বাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয় এবং দলীয় সরকার ও দলীয় শাসন চালু হয়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়। তখন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল রাজনৈতিক চালিকা শক্তি ছাত্রলীগের বিপ্লবী অংশ, এ ধারার যুব নেতৃত্ব ও সমাজ পরিবর্তনে বিশ্বাসী মুক্তিযোদ্ধারা জাসদ গঠন করেন। জাসদ গণতান্ত্রিক পথে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে জাসদ অংশগ্রহণ করে। এ নির্বাচনেও জাসদের কয়েকজন বিজয়ী প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়। জাসদের সরকার বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য জাসদের উপর সীমাহীন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন নেমে আসে। হাজার হাজার নেতা-কর্মী হত্যা-নির্যাতন জেল-জুলুমের শিকার হন। পরবর্তীতে জরুরী অবস্থা ঘোষণা এবং সংবিধান সংশোধন করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। এরকম পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশের অনুপস্থিতিতে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বিস্তার লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তানসহ অপরাপর আন্তর্জাতিক শক্তি ও দেশীয় শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট আঘাত হানে এবং বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। খুনী মোশতাক দেশকে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তানী ধ্যানধারনার রাজনৈতিক পথে ঠেলে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির পাল্টা আঘাতের বিরুদ্ধে জাসদ ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের প্রচেষ্টা চালায়। জিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শক্তির ষড়যন্ত্র ও তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়। জিয়ার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটে, রাষ্ট্র-প্রশাসন-সমাজকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ধারায় ঠেলে দেয়া হয়। সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থানে মহান নেতা কর্নেল তাহেরসহ জাসদ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলায় প্রহসণমূলক বিচারে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়, জাসদ নেতৃবৃন্দকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। জাসদ, আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে মেরে কেটে দমন ও কোনঠাসা করা হয়। দেশ ধারাবাহিক সামরিক শাসনের কবলে পতিত হয়। সামরিক শাসকদের হাত দিয়ে সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্বাসিত হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ধ্যান ধারনা সংবিধানে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক-সামাজিক-আর্থিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধপূর্ব ও মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির বিরোধই রাজনীতির প্রধান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই প্রধান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রধান দিকের আপাত অবসান হয়। এটা প্রধান দ্বন্দ্বের অপ্রধান অংশে পরিণত হয়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর ধারাবাহিক সামরিক শাসকদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সমর্থন, বিশেষ করে বিএনপির রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি, আপস ও অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির পুনরুত্থান শুরু হয়। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের দল জামাতের সাথে জোট বেধে বিএনপির সরকার গঠন ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভূক্ত করার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির চূড়ান্ত পুনরুত্থান ঘটে। খোদ রাষ্ট্রযন্ত্রকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদী শক্তির পৃষ্ঠপোষকে পরিণত করা হয়। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির দ্বন্দ্ব, যা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রধান দ্বন্দ্বের অপ্রধান অংশে পরিণত হয়েছিল, সেই প্রধান দ্বন্দ্বের অপ্রধান অংশ আবারও জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান দ্বন্দ্বের প্রধান অংশে পরিণত হয়।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই জাসদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা এবং প্রতিরোধের চেষ্টা করে। ১৯৮০ সালে ১০ দলীয় জোট, ১৯৮৩ সালে ১৫ দলীয় জোট গড়ে তোলা, ১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গণআদালত গঠন ও গণআদালত কেন্দ্রিক গণআন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদ্যোগী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু জাসদের অভ্যন্তরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক করণীয় নিয়ে মতাদর্শগত বিতর্কে জাসদ কয়েক দফা ভাঙ্গনের শিকার হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় জাসদ ২০০২ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার রাজনৈতিক কৌশল তথা ‘ঐক্যের কৌশল’ প্রয়োগ করে জাসদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির প্রশ্নে দ্যোদূল্যমান শক্তিকেও টেনে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের উদ্যোগ গ্রহণ করে। জাসদের উদ্যোগী ভূমিকার ফলে ১৪ দল ও পরবর্তীতে মহাজোট গঠিত হয়। জাসদ বিএনপি-জামাতকে রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে রাখার রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োগ করে। এ সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তির দ্বন্দ্ব এতটাই তীব্রতা ও পরিণত মেরুকৃত অবস্থায় দাড়িয়েছিল যে, মধ্যপন্থা বা তৃতীয়পন্থা বা বিকল্প গড়ে তোলা বা বিএনপি-আওয়ামী লীগ থেকে সমদূরত্বে থাকার কৌশল শুধু আত্মঘাতিই ছিল না, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিক সুবিধা প্রদান করার সমার্থকও ছিল।
২০০৮ সাল থেকে ১৪ দল ও মহাজোট সরকার রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ধারার সূচনা করে। এর ফলাফল হিসাবে ২০১৮ সালে রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজে কিছুটা গুণগত ও পরিমাণগত পরিবর্তন সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্যনীয়। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি ও তাদের মূল রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক বিএনপি রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির দ্বন্দ্ব এখনও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান অবস্থানে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হিসাবে বিএনপির শক্ত রাজনৈতিক নীতিগত অবস্থান দেশের জন্য বিপদ হিসাবে বিদ্যমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি-জামাতসহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরাজয়, এই রাজনৈতিক ধারাকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস না করা পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসহ বিএনপি-জামাত বিরোধী সকল শক্তির রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখা এবং বিএনপি-জামাতকে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে রাখার যে রাজনৈতিক লাইন জাসদ প্রয়োগ করে আসছেÑ তা আঁকড়ে থাকার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে।
সভা একই সাথে যারা বিএনপি-আওয়ামী লীগকে এক পাল্লায় মেপে বিএনপি-আওয়ামী লীগ থেকে ‘সমদূরত্বে থাকা’, ‘তৃতীয় পন্থা’, ‘বিকল্প’ ইত্যাদি মধ্যপন্থার রাজনৈতিক লাইনের কথা বলে থাকেন সেই সকল রাজনৈতিক শক্তি-মহল-ব্যক্তিকে তাদের বিএনপি-জামাতকে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ছাড় দেয়ার বিভ্রান্ত ও আত্মঘাতি রাজনীতি পরিহার করে বিএনপি-জামাতকে রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্যে যুক্ত হবার আহ্বান জানাচ্ছে।

২. সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বাধ্যবাধকতা। নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষমতা ও এখতিয়ারের সীমা, নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও এখতিয়ার এবং নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। এর সব কিছুই সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে সুনির্দিষ্ট করা আছে। তারপরও এসব নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করে দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দিয়ে অসাংবিধানিক-অস্বাভাবিক সরকার আনা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা-হত্যার বিচার, দুর্নীতির বিচার বন্ধ করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশকে ১৯৭৫ এর রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে মেরে কেটে কোনঠাসা করে অন্য দিকে রাষ্ট্র ক্ষমতা-অর্থ-সম্পদ ব্যবহার ও মদদে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি গণতান্ত্রিক লেবাস লাগিয়ে গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে নির্বাচনী শক্তি হিসাবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে। বিএনপি-জামাত তথা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি তাদের বর্তমান কোনঠাসা অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনঃঅর্জনের জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কাজে লাগানোর কৌশল গ্রহণ করতে পারে। তাই বিএনপি-জামাতসহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে রাজনীতির মাঠে, নির্বাচনের মাঠে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার জন্য রাজনীতির মাঠে ও নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্য বজায় রাখতে হবে। এখানে সামান্যতম বিভ্রান্তি বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্য আত্মঘাতি হবে।

৩. মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সমন্বয়ে ১৪ দল ও বিএনপি-জামাত বিরোধী জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দলকে সাথে নিয়ে গঠিত মহাজোট সমঝোতার ভিত্তিতে ২০০৮ সালের নির্বাচন করে। ১৪ দল ও মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়। ১৪ দল ও মহাজোট সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির দূর্বলতম গ্রন্থি যুদ্ধাপরাধের বিচারের আইনী পদক্ষেপ নেয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক ধারার ভিত্তিতে চরম আঘাত হানে। ১৪ দল ও মহাজোট সরকার কর্তৃক সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বহাল রাখার গোঁজামিল সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি সংবিধানে প্রতিস্থাপন, মুক্তিযুদ্ধের নির্বাসিত ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র আবার তার মূল ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধের পথে ফিরতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি সরকার দেশের উৎপাদিকা শক্তির বিকাশে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করেছে। ফলে উৎপাদিকা শক্তির বিপুলভাবে বিকশিত ও জাতীয় উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার মুক্ত বাজার অর্থনীতির মূলনীতি ‘রাষ্ট্রের হাত গুটিয়ে নাও, সব কিছু বাজারের হাতে ছেড়ে দাও’ নীতি থেকে রাষ্ট্রকে সরিয়ে এনে সামাজিক চাহিদার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর ফলে সমাজের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের দারিদ্রতা কমেছে ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চলমান এ পরিবর্তনের ধারা দেশে একটি সামগ্রিক পরিবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এ ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক বিষয় লক্ষনীয়। দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে দুর্নীতি, লুটপাট, দখলবাজী, চাঁদাবাজী, দলবাজীর দাপট বেড়েছে। বিশেষ ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে লুটপাট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। লুটেরা গোষ্ঠী সমাজ ও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। এই লুটেরা গোষ্ঠী সরকারের উন্নয়ন সাফল্যকে ম্লান ও কালিমালিপ্ত করছে। দেশে একদিকে যেমন ব্যাপক উন্নয়ন চলছে অন্যদিকে সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও দেশে লাভ-লোভ-সম্ভোগ-সহিংসতা-নৃশংসতার সংস্কৃতি জেঁকে বসছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তানপন্থার রাজনীতি, জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ এবং এদের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ও সামাজিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থনীতিতে গণমূখী উৎপাদনমূখী যে ধারার সূচনা হয়েছে তা এগিয়ে নিতে হলে:

ক. মুক্তিযুদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি জাতীয় চেতনায় জাতীয় জাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করা,

খ. লুটেরা গোষ্ঠীকে কোন ছাড় না দিয়ে মোকাবেলা ও দমন,

গ. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা,

ঘ. জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করা, জাতীয় সংসদে উচ্চ কক্ষ ও দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালু, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু, জেলা-উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারসমূহকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও কার্যকর করা,

ঙ. সভা দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছে।

চ. সভা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ জনঅধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদানে সক্ষম জাতীয় প্রহরী সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছে।

ছ. সামাজিক বৈষম্যের অবসান করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে সমাজতন্ত্রমুখী করা জরুরী।

 

৪. রাজনীতি ও নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থার রাজনীতি, জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ এবং এদের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও যুদ্ধের মধ্যেই রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, ক্ষমতাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা গোষ্ঠী এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে বিরাজমান সকল ধরনের বৈষম্য, অনাচার, অবিচার, অত্যাচার, নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাসদ, ১৪ দল, মহাজোটসহ দেশের সকল শ্রেণী-পেশার সংগঠনকে সোচ্চার হতে হবে।

৫. অতীতে ১৪ দল ও মহাজোটের সাথে নির্বাচনী ঐক্য ও সমঝোতায় জাসদ যে সংখ্যক আসন পায় তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অসন্তুষ্টি তৈরি হয়। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনে আসন বন্টনে জাসদকে যে কয়টি আসন দেয়া হয়েছে তা দলের জন্য মর্যাদাজনক নয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন অবশ্যই কাম্য। কিন্তু বাস্তবতা কঠিন ও রুঢ়। আসন সমঝোতা ও বন্টনে আমাদের দলের প্রতি যে অন্যায্যতা হয়েছে তা আমাদের দলেরই দূর্বলতার জন্য। আমাদের দলের দূর্বলতাই বাধ্য করেছে আসন বন্টনে ন্যূনতম সমঝোতা মানতে। এ অবস্থার মধ্যেও রাজনৈতিক শক্তি ও নির্বাচনী শক্তি হিসাবে গ্রাহ্য হবার জন্য যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি অর্জনের অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা জাসদের সামনে তৈরি হয়েছিল কিন্তু জাসদ সেই সুযোগ পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে সমর্থ ও সফল হয়নি। ‘১৪ দল ও মহাজোটের ঐক্যের প্রার্থী হলে বা হবার সম্ভাবনা থাকলে রাজনৈতিক সাংগঠনিক তৎপরতা চালাবো অন্যথায় কেন কষ্ট করবো’Ñ এই মানসিকতা বহু এলাকায় দলের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক-নির্বাচনী শক্তি হিসাবে গড়ে উঠার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ইউপি নির্বাচন/পৌর/মেয়র/ কাউন্সিলর/উপজেলা চেয়ারম্যান/ভাইস চেয়ারম্যান/জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান/সদস্য নির্বাচন না করে ১৪ দল/মহাজোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী হবার যে প্রবনতা দেখা যাচ্ছে তা খুবই উচ্চাভিলাসী ও বাস্তবতাবর্জিত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রাহ্য প্রার্থী হিসাবে নিজেদের যৌক্তিকভাবে প্রতিষ্ঠা করাই হবে এ মুহুর্তের আশু করণীয়।
এ পরিস্থিতিতে দলকে সকল জেলা-উপজেলা-সংসদীয় এলাকায় রাজনৈতিক-সাংগঠনিক-নির্বাচনী গ্রাহ্য শক্তি হিসাবে গড়ে তোলার জন্য নিজস্ব কায়দায় রাজনৈতিক-সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে দলকে জনগণের দৃষ্টিতে গ্রাহ্য শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

৬. সভা অবিলম্বে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম জোরদার করা এবং মাঠ পর্যায়ে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সমাবেশ করার জন্য জাসদের পক্ষ থেকে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করছে।

৭. সভা নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা জাসদের সভাপতি জায়েদুল কবীরসহ জাসদের নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের উপর আওয়ামী লীগ নামধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলা, নাটোরের লালপুরে জাসদ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ নেতা-কর্মীদের উপর আওয়ামী লীগ নামধারীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছে। এ সকল ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার নিন্দা করছে। সভা জাসদ নেতা-কর্মী-সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-সাংগঠনিক-প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভায় উত্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

৮. সভা ১লা বৈশাখসহ বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী উৎসব মেলা-পালা-পার্বন ইত্যাদি উদযাপন ও এ সকল উৎসবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও জনসমাগমকে উৎসাহিত করার বদলে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনী কর্তৃক নিরাপত্তার নামে আতংক তৈরি না করা এবং এ সকল ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
অন্যান্য প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তসমূহ
জাসদ জাতীয় কমিটির সভায় গৃহিত অন্যান্য প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তসমূহ:

  • সভা মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর জাতিগত নিপীড়ন ও নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নি:শর্তভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের সাথে দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগের পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ বাড়াতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা নিরবচ্ছিন্ন ও জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অবাস্তবায়িত অংশ অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা মনে করে, বাংলাদেশের ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ থেকে ‘উন্নয়নশীল দেশ’ হিসাবে উত্তরণ দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতির শক্তির সম্মানজনক স্বীকৃতি। সভা এ স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক নিরলস প্রচেষ্টার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাচ্ছে। সভা একই সাথে মনে করে, ‘উন্নয়নশীল দেশ’ হিসাবে উত্তরণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রবেশাধিকার, ঋণ ও বৈদেশিক সাহায্য অনুদান প্রাপ্তিসহ বহু ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।
  • সভা মনে করে, নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বব্যাপী প্রশংসা লাভ দেশের জন্য সম্মান ও গৌরবের বিষয়। সভা এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। সভা একই সাথে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি করায় জাতীয় সংসদ ও সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।
  • সভা মনে করে, সরকারী চাকুরীতে নিয়োগে সংরক্ষিত কোটা নিয়ে বিভ্রান্তি, আপত্তি, ছাত্রদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আপাততঃ কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি সময়োচিত সঠিক পদক্ষেপ। সভা মনে করে, সমাজের পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক অবস্থা থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। তাই উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তি ও সরকারী চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সভা, কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা-পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত চাকুরী ও কর্মপ্রার্থী বেকার যুবকদের রেজিষ্ট্রেশন ও তাদের তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ডাটাবেজ তৈরি, তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, স্বউদ্যোগী ও প্রবাসগামীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, সরকারী শুন্য পদে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং সরকারী চাকুরীর বয়স ৩৫ বছর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা, বিভিন্ন পর্যায়ে পাবলিক পরীক্ষা এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সভা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণতা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান না হওয়াসহ গণতান্ত্রিক পরিবেশের অনুপস্থিতিতে যে বদ্ধ জলাশয়ের মত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে তার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সভা ডাকসুসহ ছাত্র সংসদ সমূহের নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসমূহে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণ করা এবং ভর্তি ফি সুনির্দিষ্ট করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রত্যয়কে আরও গণমুখী ও কার্যকর করার জন্য ব্যান্ড উইথ, মোবাইল কল সার্ভিস, মোবাইল ডাটা সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যবহার খরচ কমিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা সরকারী ও বেসরকারী কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সভা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে অনিয়নম, দুর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ দূর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা জাতীয় মহাসড়কসমূহে দেশের প্রায় সর্বত্র সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিন প্রাণহানি, আহত, পঙ্গু হবার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সভা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক-শ্রমিক-ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা খাদ্যদ্রব্য ও ঔষধে ভেজালের বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণতা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ, প্রাপ্যতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সরকারী নজরদারী জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা মাদক ও নেশা দ্রব্যের সহজপ্রাপ্যতা রোধ, মাদক নেটওয়ার্ক ধ্বংসের কাজ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী কর্তব্য হিসাবে বিবেচনা করে শুন্য সহিষ্ণতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীতে যানজট অবসানে এবং গণপরিবহণ খাতে নিয়ন্ত্রনহীণ ও অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানী রোধে টাস্ক ফোর্স গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানী বন্ধসহ নারীর যাতায়াত ও চলাচল নিরাপদ, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের প্রতি অমানবিক, পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং শিশু নির্যাতনকারীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ১৮০০০/- টাকা মজুরিসহ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সংরক্ষণ, বিপনন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন করা এবং কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা ও সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, নার্স, প্যারামেডিক্স, মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টের উপস্থিতি এবং জরুরী ঔষধের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা জলবায়ূ পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাসমূহে জলবায়ূ পরিবর্তনের নেতিবাচক ফলাফল ও ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা তিস্তা নদীর পানি বন্টনে ভারতের সাথে চলমান আলোচনা দ্রুত শেষ করে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করা, অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনার সূত্রপাত করা এবং গঙ্গা-ব্রক্ষ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বহুপক্ষীয় যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি হুমকি নিয়ে যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। সভা একই সাথে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী উৎপাদন, এলএনজি, কয়লাসহ জ্বালানী আমদানী, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বন্টনসহ সকল মেগা প্রজেক্টকে পরিবেশ বান্ধব করা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। সভা দেশের সামগ্রিক প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশের সুরক্ষার জন্য সরকারকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।
  • সভা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের বিশাল সাফল্যের পরও মাঠ পর্যায়ে গৃহ বিদ্যুৎ সংযোগে দুর্নীতি ও হয়রানী বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।